মোঃ মোশারেফ হোসেন
স্ট্যাফ রিপোর্টার্র
কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্যহীন নবম পে-স্কেলের গেজেট দ্রুত প্রকাশ ও ১লা জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার দাবিতে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টার নবম পে-স্কেল সংক্রান্ত বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) কর্মচারী সমিতির উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দূর্বার বাংলার পাদদেশ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন কুয়েট কর্মচারী সমিতির সভাপতি শেখ এরশাদ আলী এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসিব সরদার।
সভাপতির বক্তব্যে শেখ এরশাদ আলী বলেন,
“দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারীরা অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার। নবম পে-স্কেল আমাদের ন্যায্য অধিকার। অবিলম্বে গেজেট প্রকাশ করে ১ জানুয়ারি থেকে বাস্তবায়ন না করা হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসিব সরদার বলেন,
“কর্মচারীদের ঘাম ঝরানো শ্রম ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না। অথচ আমাদের প্রাপ্য অধিকার নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে। জ্বালানি উপদেষ্টার বিভ্রান্তিকর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।”
প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কর্মচারী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ শাহরিয়া খান, সহ-সভাপতি মোঃ আসাদুজ্জামান মোড়ল, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সম্রাট কাজী, কোষাধ্যক্ষ মোঃ হাফিজুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক এস এম নুরুজ্জামান, প্রচার সম্পাদক মোঃ শরিফুজ্জামান, সহ-প্রচার সম্পাদক মোঃ আলামিন ফকির।
বক্তারা বলেন, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা কর্মচারীদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করেছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি আদায় না হলে সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন রুমা খাতুন, বেগ শিবলী, মিঠুন কুমার দাস, মাসুম মিজি, মোঃ হাবিবুর রহমান, কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি ইমদাদ মোড়ল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ জালাল মুন্সি, শেখ হাফিজুর রহমান, মোঃ সাইফুল ইসলাম, মীর জাকির হোসেন, আহসান হাবিব সুমন, মোঃ মহসিন মোড়ল, লাভলু আকনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের সর্বস্তরের কর্মচারীবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।