ভোলার ইলিশা ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী আশা দাও ৪ লঞ্চ মেঘনা নদীর চাঁদপুর সীমানায় হঠাৎ তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে। ঝড়ের প্রচণ্ড দাপটে লঞ্চটি উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে পড়লে ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি সৃষ্টি হয়।লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীদের সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যার পর লঞ্চটি চাঁদপুর নদী অঞ্চল অতিক্রম করার সময় হঠাৎ আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তন ঘটে এবং তীব্র ঝড়-বাতাস শুরু হয়। উত্তাল নদীর বুকে লঞ্চটি দুলতে থাকায় যাত্রীরা প্রাণভয়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করেন। তবে চালকের দক্ষতায় লঞ্চটি বড় কোনো দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়ে মুন্সিগঞ্জ ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছায়।এদিকে লঞ্চটি মুন্সিগঞ্জ সীমানায় পৌঁছালে আরেকটি বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কিছু যাত্রী তাড়াহুড়ো করে ট্রলারে চড়ে নামার চেষ্টা করেন। এ সময় একটি যাত্রীবাহী ট্রলার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অসাবধানভাবে চলন্ত লঞ্চের একেবারে গা ঘেঁষে এসে দাঁড়ায়। ট্রলার চালকের চরম খামখেয়ালি এবং অসতর্কতার কারণে ট্রলারটি প্রায় লঞ্চের নিচে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।লঞ্চের যাত্রীরা জানান, ট্রলার চালকের এই মারাত্মক ভুলের কারণে ট্রলারে থাকা যাত্রীদের প্রাণহানির মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। উপস্থিত অন্য যাত্রী ও লঞ্চ স্টাফদের চিৎকারে ট্রলারটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ায় অল্পের জন্য রক্ষা পান সবাই।এই জোড়া আতঙ্ক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কাটিয়ে অবশেষে লঞ্চটি নিরাপদভাবে ঢাকার সদরঘাট টার্মিনালে এসে পৌঁছায়। সদরঘাটে নামার পর যাত্রীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। তবে মাঝনদীতে ট্রলার দিয়ে এভাবে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাত্রী নামানোর বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা এবং নৌ-পুলিশের আরও কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন।